এই ত এখানে সেই পুরনো নদীটি
এই সেই মধুমতী -মাঠ।
এখানে সবুজ ঘাসে
ঘুম আর ঘুম
ছিল এককালে।
কোনো একদিন
এ তীরে হলুদ ফুল ফুটেছে অশেষ,
সমুখে আমের বীথি এখনো রয়েছে;
ঘুঘুর অশ্রান্ত ডাক নেই।
নেই সেই ঘুম আজ
নেই সেই ঘাসের গালিচা,
ধূসর মাটির বুকে ধরেছে ফাটল।
ছ’বছর ছ’বছর নয়।
সহস্র বছর যেন ঝড় বয়ে গেছে।
যেখানে ছিলো ঘুমের ছায়া দোলানো
যেখানে ছিলো স্বপন মন-ভোলানো
সেখানে এসে দুরের কোনো ডানা
দস্যুসম দিয়েছে কবে হানা
এই নদী পিছে রেখে খানিক এগিয়ে
পার হয়ে এই মাঠ
আরো কিছু হেঁটে যেতে হবে
তারপর
এই ত এখানে।
এখানে আকাশ-ছোঁয়া
এইসব মাটির সীমানা
ঘেরা ছিলো বুকভরা ভালোবাসা দিয়ে।
এখানে অজস্র সোনা ছিলো
আজও আছে।
মালিকানা হয়েছে বদল
যদিও সোনার-
যায়নি খনির বুকে ঘাম ঝরাবার অধিকার।
এখানে আছে সবুজ মাঠ সোনালি ধান
নেইকো শুধু সহজ দিন সবল প্রাণ
সোনার শীষে মরণজয়ী আশা
নেইকো বেঁচে মাটির বুকে নেই সে ভালোবাসা
এই মাঠে পথ আছে
চারদিকে ছড়ানো সে পথ।
দু’পাশে ধানের গাছ ভেঙে দিয়ে দিয়ে
সেই পথে চ’লে এসে-
এই ত পেয়েছি।
ঐ যে দীঘির পাশে ঐ ছোট একচালা ঘর
ঐ ঘরে বাস করে কাজেম বয়াতী
শুনেছি মরেনি আজো
যদিও মরেছে
সেই কন্ঠ তার-
চব্বিশ বছর ধ’রে যে কন্ঠের সুর,
রাতের গভীরে নিত্য তুলেছে জোয়ার
ঘরে ঘরে।
কোথা সে দিন ভাবনাহীন ভয়বিহীন
সুরের ছায়া ছড়ায় ঘুম কোথা সে দিন
দিন কোথায়
কোথা সে প্রাণ প্রাণের সেই বীণ কোথায়
ঐযে টিনের ছাওয়া আটচালা ঘর
দফাদার বাড়ি।
ও বাড়ির বিরাট ঊঠানে
বিরাট জামাতে এসে দেখা দিয়ে যেত
‘ছয়ফলমুলুক’ আর ‘বদিউজ্জামাল’
বহু রাতে।
সে উঠান আজকে নীরব!
ঐযে ওধারে
খালের কিনার ঘেঁষে
ঘরখানা ভেঙে পড়ে আছে
ওখানে মক্তব ছিলো।
মক্তবের ছেলেরা এখন
শহরে ইজের পরে
কাঁটা আর চামচ সাজায়।
অজানা আঘাত ভেঙেছে ঘর
ভেদাভেদ নেই আপন-পর
বনের পাখিরা আজ খাঁচায়
মাথা বেঁচে দিয়ে প্রাণ বাঁচায়
এই সেই গ্রাম।
তবু যেন সেই গ্রাম নয়।
পঁচিশ বছর ধরে চেনা সেই গ্রাম
ঢেকে গেছে স্টবিয়াই নগরীর মত।
রাতের বাতাসে আজ
কাঁপে না বাঁশীর ভাটিয়ালী।
নারিকেল সুপারীর বনে
অন্ধকার থম থম করে,
শূন্য মাঠ,
চলে না পথিক,
প্রেতের ডানার তলে,
দু:স্বপ্নে দীর্ঘ রাত কাটে।
এই সেই গ্রাম।
এখানে নয়ন মেলে,
পা রেখে এখানে
আজ শুধু ভয় করে ওঠে।
যে আকাশ ছিলো হাতের মুঠায় জড়ানো
সে-আকাশে জাগে ভয়
মৌমাছি-ডানা-ঘুম দিয়ে দিন গড়ানো
সেদিন এখন নয়
এ মানুষ চলে যেন মৃতের মিছিল
সাড়া নেই কোনো।
সবার সমুখে
অলক্ষ্য উদ্ধত মুঠি জেগে আছে যেন।
ভয়ে ভয়ে একান্ত গোপনে
দিনান্তে ঘরের কোণে তারা
অন্ধকারে করে অনুভব
বেঁচে আছে আজো।
অনেক মানুষ ছিলো মরেছে অনেক।
সেই সাথে মরে গেছে তারো চেয়ে বেশি-
শতাব্দীর গ’ড়ে ওঠা এইসব গ্রাম।
এই সেই মধুমতী -মাঠ।
এখানে সবুজ ঘাসে
ঘুম আর ঘুম
ছিল এককালে।
কোনো একদিন
এ তীরে হলুদ ফুল ফুটেছে অশেষ,
সমুখে আমের বীথি এখনো রয়েছে;
ঘুঘুর অশ্রান্ত ডাক নেই।
নেই সেই ঘুম আজ
নেই সেই ঘাসের গালিচা,
ধূসর মাটির বুকে ধরেছে ফাটল।
ছ’বছর ছ’বছর নয়।
সহস্র বছর যেন ঝড় বয়ে গেছে।
যেখানে ছিলো ঘুমের ছায়া দোলানো
যেখানে ছিলো স্বপন মন-ভোলানো
সেখানে এসে দুরের কোনো ডানা
দস্যুসম দিয়েছে কবে হানা
এই নদী পিছে রেখে খানিক এগিয়ে
পার হয়ে এই মাঠ
আরো কিছু হেঁটে যেতে হবে
তারপর
এই ত এখানে।
এখানে আকাশ-ছোঁয়া
এইসব মাটির সীমানা
ঘেরা ছিলো বুকভরা ভালোবাসা দিয়ে।
এখানে অজস্র সোনা ছিলো
আজও আছে।
মালিকানা হয়েছে বদল
যদিও সোনার-
যায়নি খনির বুকে ঘাম ঝরাবার অধিকার।
এখানে আছে সবুজ মাঠ সোনালি ধান
নেইকো শুধু সহজ দিন সবল প্রাণ
সোনার শীষে মরণজয়ী আশা
নেইকো বেঁচে মাটির বুকে নেই সে ভালোবাসা
এই মাঠে পথ আছে
চারদিকে ছড়ানো সে পথ।
দু’পাশে ধানের গাছ ভেঙে দিয়ে দিয়ে
সেই পথে চ’লে এসে-
এই ত পেয়েছি।
ঐ যে দীঘির পাশে ঐ ছোট একচালা ঘর
ঐ ঘরে বাস করে কাজেম বয়াতী
শুনেছি মরেনি আজো
যদিও মরেছে
সেই কন্ঠ তার-
চব্বিশ বছর ধ’রে যে কন্ঠের সুর,
রাতের গভীরে নিত্য তুলেছে জোয়ার
ঘরে ঘরে।
কোথা সে দিন ভাবনাহীন ভয়বিহীন
সুরের ছায়া ছড়ায় ঘুম কোথা সে দিন
দিন কোথায়
কোথা সে প্রাণ প্রাণের সেই বীণ কোথায়
ঐযে টিনের ছাওয়া আটচালা ঘর
দফাদার বাড়ি।
ও বাড়ির বিরাট ঊঠানে
বিরাট জামাতে এসে দেখা দিয়ে যেত
‘ছয়ফলমুলুক’ আর ‘বদিউজ্জামাল’
বহু রাতে।
সে উঠান আজকে নীরব!
ঐযে ওধারে
খালের কিনার ঘেঁষে
ঘরখানা ভেঙে পড়ে আছে
ওখানে মক্তব ছিলো।
মক্তবের ছেলেরা এখন
শহরে ইজের পরে
কাঁটা আর চামচ সাজায়।
অজানা আঘাত ভেঙেছে ঘর
ভেদাভেদ নেই আপন-পর
বনের পাখিরা আজ খাঁচায়
মাথা বেঁচে দিয়ে প্রাণ বাঁচায়
এই সেই গ্রাম।
তবু যেন সেই গ্রাম নয়।
পঁচিশ বছর ধরে চেনা সেই গ্রাম
ঢেকে গেছে স্টবিয়াই নগরীর মত।
রাতের বাতাসে আজ
কাঁপে না বাঁশীর ভাটিয়ালী।
নারিকেল সুপারীর বনে
অন্ধকার থম থম করে,
শূন্য মাঠ,
চলে না পথিক,
প্রেতের ডানার তলে,
দু:স্বপ্নে দীর্ঘ রাত কাটে।
এই সেই গ্রাম।
এখানে নয়ন মেলে,
পা রেখে এখানে
আজ শুধু ভয় করে ওঠে।
যে আকাশ ছিলো হাতের মুঠায় জড়ানো
সে-আকাশে জাগে ভয়
মৌমাছি-ডানা-ঘুম দিয়ে দিন গড়ানো
সেদিন এখন নয়
এ মানুষ চলে যেন মৃতের মিছিল
সাড়া নেই কোনো।
সবার সমুখে
অলক্ষ্য উদ্ধত মুঠি জেগে আছে যেন।
ভয়ে ভয়ে একান্ত গোপনে
দিনান্তে ঘরের কোণে তারা
অন্ধকারে করে অনুভব
বেঁচে আছে আজো।
অনেক মানুষ ছিলো মরেছে অনেক।
সেই সাথে মরে গেছে তারো চেয়ে বেশি-
শতাব্দীর গ’ড়ে ওঠা এইসব গ্রাম।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন